মালয়েশিয়ায় রিলোকেশন ১ - কোম্পানির সাথে দর কষাকষি ও এমপ্লয়মেন্ট পাস

Posted on 22 Mar, 2019 in malaysia

পূর্ববর্তী পোস্ট মালয়েশিয়ায় রিলোকেশন ০ - রেজিউম প্রস্তুতি ও ইন্টারভিউ

আগের পর্বে রিলোকেশন নিয়ে রেজিউম বিল্ড করা ও ইন্টারভিউ দেওয়া নিয়ে বেশ কিছু টিপস দিয়েছিলাম। তো ইন্টারভিউ ভালমত হলে আপনার স্যালারী আর সম্ভাব্য জয়েনিং ডেট জানতে চাওয়া হবে। সেই সাথে কিছু অতিরিক্ত তথ্যও চাইতে পারে যেমন বিবাহিত কিনা, সন্তান কয়টি ইত্যাদি। কেননা আপনি বিবাহিত হলে আপনার স্ত্রী ও সন্তান থাকলে তাদের ভিসাও কোম্পানিই প্রসেস করবে।

এবার আসি কি কি বিষয়ে কোম্পানির সাথে মুলামুলি করবেন।

দর কষাকষি

নিচের বিষয়গুলি যতটা সম্ভব প্রফেশনালি ও ভদ্রভাবে নেগোশিয়েট করে নিতে পারেন কোম্পানির HR এর সাথে।

  • তাদের প্রপোজড স্যালারী কত, আপনার এক্সপেক্টেড স্যালারী কত
  • বছরে ছুটি কয়দিন, সিক লিভ আর এনুয়াল লিভ ছাড়াও প্যাটারনিটি লিভ, কমপ্যাশনেট লিভ, স্টাডি/এক্সাম লিভ আছে কিনা
  • প্রবেশন পিরিয়ড কতদিন, প্রবেশন পিরওডে ছুটি বা অন্যান্য সুবিধা কি কি কম
  • হেলথ ইনসুরেন্স আছে কিনা, থাকলে লিমিট কত, স্পেশালিস্ট ডাক্তার দেখানো যাবে কিনা
  • ট্রান্সপোর্ট সুবিধা আছে কিনা
  • ওয়ার্কিং আওয়ার কয়টা থেকে কয়টা, ফ্লেক্সিবলিটি আছে কিনা, রিমোট অফিস করা যায় কিনা ইত্যাদি

এসবের বেশীরভাগই আপনি কোম্পানির পলিসিতে যেমন সেটা ছাড়া বদলাতে পারবেন না, বেতন আর প্রবেশন পিরিয়ড ছাড়া। সুতরাং এই ক্ষেত্রে মুলামুলি করতে হবে। বেতনের ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন কেননা একেকজনের চাহিদা, লাইফস্টাইল, সেভিংস এর প্রবণতা একেকরকম। আবার বিভিন্ন দেশে, ও শহরের ভিত্তিতে খরচও কমবেশী হয়। সুতরাং বেতন কত চাইবেন সেটা আপনাকে নিজেকেই ঠিক করে নিতে হবে। তবে কিছু বিষয়ে আমি ধারণা দিতে পারি যা আপনার এক্সপেক্টেড স্যালারী হিসাব করতে সাহায্য করবে।

  • মালয়েশিয়ায় স্কিলড ইমিগ্রেশন শুরু হয় ক্যাটাগরি-১ আর ক্যাটাগরি-২ ভিসা দিয়ে। ১ম ক্যাটাগরির জন্য মিনিমাম বেতন ১০,০০০ রিংগিত (২ লাখ টাকা প্রায়) আর ২য় ক্যাটাগরির জন্য ৫,০০০ রিংগিত (১ লাখ টাকা প্রায়)। কোম্পানিগুলা মূলত ৫,০০০ রিংগিতের নিচে বেতন দিয়ে কাউকে আনতে পারেনা। কাজেই আপনি অবশ্যই এর বেশী চাইবেন। তবে ১০,০০০ রিংগিত বেতন দিতে হলে ২ বছরের কনট্রাক্ট প্রয়োজন হবে যেটা সব কোম্পানি শুরুতেই কোন এমপ্লয়ীকে নাও দিতে চাইতে পারে।
  • আপনি গুগল ম্যাপ, Expat Malaysia, iProperty, Propertyguru ইত্যাদি ওয়েবসাইট ঘেটে আপনার অফিসের আশেপাশে ও মিডিয়াম রেঞ্জের দূরে বাসাভাড়া কেমন তা চেক করে নিতে পারেন। এখানে সিংগেল থাকলে ১০০০-১৫০০ আর ফ্যামিলি সহ থাকলে ১৫০০-২৫০০ এর মাঝে মোটামুটি ভালই বাসা পাওয়া যেতে পারে (কুয়ালালুমপুর থেকে কিছু দূরে)। কুয়ালালুমপুর এর ভেতরে থাকতে চাইলে বাসা ভাড়া কিছুটা বাড়বে।
  • মালয়েশিয়ায় খাবার আর ট্রান্সপোর্ট খরচ বাংলাদেশের চেয়েও কম মনে হয়েছে। সুতরাং দেশে যেমন খরচ হত ওইরকমই খরচ ধরে রাখতে পারেন। তবে শুরুতে রান্নাবান্না সহ কিছু জিনিস কিনতে বেশী কিছু খরচ হবে। প্রতি সপ্তাহে খাবার খরচ ১০০-২০০ রিংগিত লাগতে পারে যদি বাসাতেই সব রান্না করে খেতে চান। আর ট্রেন ও বাসভাড়ার জন্য মাসে ১০০-৩০০ রিংগিতের বেশী লাগার কথা না। তবে আপনার স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে থাকলে খরচ বাড়বে।
  • হেলথ ইনসুরেন্স যদি কোম্পানি না দেয় এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামেও হেলথ ইনসুরেন্স করাতে চান, তাহলে মাসিক কিস্তির টাকাটাও বিবেচনা করুন।
  • যদি গাড়ি কিনতে চান, সেক্ষেত্রে পার্কিং ফি দিতে হবে (বাসা ও অফিসে মাসিক কিস্তিতে, অন্য সবখানে ইউসেজের উপর নির্ভর করে)
  • ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য মাসে ১০০-১৫০ রিংগিত, নেটফ্লিক্সের জন্য ৫০ রিংগিত, টিভি সার্ভিস নিলে ৮০-১৫০ রিংগিত, ইলেক্ট্রিসিটি বিলের জন্য ৪০-৫০ রিংগিত ধরে রাখতে পারেন।
  • মাসে কয়বার বাইরে খাবেন সেটাও হিসাব করে নিন। মূলত ফুডচেইন স্টোরগুলো (কেএফসি, পিৎজাহাট, মিকডোনাল্ডস) গুলোতে পার পারসন ১৫-২০ এর নিচে ভাল কিছু পাওয়া কঠিন হবে।
  • যদি বাংলাদেশে এসে ঘুরে যেতে চান তাহলে রাউন্ড ট্রিপ এয়ার ফেয়ার পড়বে ৭০০-১২০০ রিংগিতের ভেতর। বছরে কয়বার দেশে যেতে চান সেটাও হিসাব করে নিতে পারেন এই সুযোগে।

এবার বলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পোস্ট লেখা পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় আসা সবার বেতন থেকে প্রথম ৬ মাস ২৮% কেটে রাখা হয় Non-resident Tax হিসেবে। বছর শেষে ট্যাক্স ফাইল করার পর আপনি এটা ফেরত পাবেন কিন্তু প্রথম ছয়মাস আপনাকে কম বেতনে চলতে হবে। আর হ্যা, যদি মাঝে দেশে থেকে ঘুরে আসেন, তাহলে এই রিফান্ড পেতে আরো সময় লাগবে কেননা মালয়েশিয়া থাকার ১৮০ দিন পূরণ হলেই আপনি এই এমাউন্ট ফেরত পাবার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।

তো হিসাব করে ফেলুন আপনার এক্সপেক্টেড স্যালারী। সেই সাথে প্রবেশন পিরিয়ড ৬ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাসও করে ফেলতে পারেন যদি পারেন। আর বাগিয়ে নিতে পারেন এক্সট্রা কিছু বেনিফিট, যেমন হেলথ ইনসুরেন্স। অনেক কোম্পানি আপনাকে রিলোকেশন এলাওয়েন্স দিতে পারে। এতে আপনি দেশ থেকে ওইদেশে যাবার সকল খরচ (বিমান, লাগেজ চার্জ, শিপিং খরচ) কোম্পানিই দিবে। অনেক কোম্পানি আবার প্রথম এক বা দু সপ্তাহ আপনার থাকার ব্যাবস্থা করে দিতে পারে নিজ খরচে। সুতরাং অফার একসেপ্ট করার আগে সবকিছু ক্লিয়ার করে নিন যাতে পরে কোনরকম ভুল বোঝাবুঝি না হয়। গুড লাক!

এমপ্লয়মেন্ট পাস

মালয়েশিয়ায় আপনি এমপ্লয়মেন্ট পাস ছাড়া কোন জব করতে পারবেন না। এমপ্লয়মেন্ট পাসের সাথে আপনাকে দেওয়া হবে ১ বা ২ বছরের মাল্টিপল এনট্রি ভিসা। এই ভিসা না থাকলে আপনি ব্যাংক একাউন্ট, ইন্টারনেট কানেকশন, ডাক্তারি সেবা ইত্যাদি অনেক কিছুই পাবেন না। সুতরাং মালয়েশিয়ায় প্রবেশের পূর্বে আপনার নামে এমপ্লয়মেন্ট পাস আর আপনার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ডিপেন্ডেন্ট পাস পাশ হতে হবে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট হতে। বিভিন্ন অর্গানাইজেশন থেকে এটা পাশ হয়। আমার ক্ষেত্রে করেছিল MDEC (Malaysia Digital Economy Corporation). MDEC যদি এপ্রুভাল না দেয়, আপনি বাংলাদেশ থেকে Visa With Reference (VDR) এর এপ্লাই করতে পারবেন না। সুতরাং মালয়েশিয়ায় পা রাখতে হলে এমপ্লয়মেন্ট পাস লাগবেই। কথা হল এটা কিভাবে পাবেন?

এমপ্লয়মেন্ট পাস এর জন্য এপ্লাই করতে পারে শুধুমাত্র মালয়েশিয়ান কোম্পানি। কাজেই আপনি বাংলাদেশে বসে আরামসে আপনার নেক্সট কোম্পানিকে ইমেইলের মাধ্যমে কিছু ডকুমেন্ট পাঠিয়ে দিলেই তারা এমপ্লয়মেন্ট পাস যোগাড় করে ফেলবে (যদি সব ভ্যালিড হয়)। দরকারী কাগজপত্র সাবমিট করার পর এমপ্লয়মেন্ট পাস পেতে সময় লাগে প্রায় ১০-১৫ দিন। আর এমপ্লয়মেন্ট পাস এর কপি হাতে পেয়ে ভিসার এপ্লাই করলে ভিসা পেতে সময় লাগে প্রায় ৮-১০ দিন। সুতরাং আপনি সকল কাগজপত্র আপনার কোম্পানিকে পাঠানোর পর মালয়েশিয়ায় পা রাখতে মিনিমাম ১ মাস লাগবেই।

দরকারী কাগজপত্র

কি খুব সহজ মনে হচ্ছে তাইনা? যা করার সব তো মালয়েশিয়ান কোম্পানিই করছে। আপনি কি করবেন? হেহে। আপনাকে প্র-চু-র কাজ করতে হবে যা আগে কখনো করেন নি (যদি অন্য দেশে জব ভিসা নিয়ে না গিয়ে থাকেন)। আপনাকে বাংলাদেশ থেকে নিচের ডকুমেন্টগুলা প্রসেস করতে হবে।

  • আপনার ব্যাচেলরস (বা শেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার) সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও এসএসসি'র প্রয়োজন নেই) এর সত্যায়িত কপি
  • স্ত্রী সহ আসতে চাইলে আপনাদের বিয়ের বাংলা কাবিননামার ট্রান্সলেশন এবং ম্যারেজ সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি (একাধিক স্ত্রী থাকলে জেনে নিন কি করতে হবে, ভিসায় সম্ভবত Array of Wives সাপোর্ট করেনা)
  • সন্তানসহ আসতে চাইলে প্রত্যেকের বার্থ সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি

এখানে একটু বলে রাখি। কাবিননামা ও বিবাহ সনদ এক জিনিস নয়। কাবিননামা হল প্রায় ২৫-২৬টা পয়েন্ট সহ লম্বা একটা সবুজ/নীল রঙের সরকারী ফর্ম যেটায় বর কনের পূর্ণ বিবরণের উল্লেখ থাকে। আর বিবাহ সনদ হল ১ পাতার একটা সার্টিফিকেট যেখানে শুধু বর কনের নাম, বিয়ের তারিখ ও তাদের ঠিকানা থাকে। এবার কিছু জিনিস বলছি যেগুলা খুবই জরুরী। নইলে আপনার এমপ্লয়মেন্ট পাস আর ডিপেন্ডেন্ট পাস (স্ত্রী ও সন্তানদের পারমিট) আটকে যেতে পারে।

  • আপনার ব্যাচেলরস (বা শেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার) সার্টিফিকেটের নাম ও পাসপোর্টের নাম যেন হুবহু একই হয়
  • আপনার সার্টিফিকেটে বাবা মায়ের নাম যেন পাসপোর্টে তাঁদের নামের সাথে মিল থাকে
  • আপনার স্ত্রীর নাম কাবিননামা ও ম্যারেজ সার্টিফিকেটে যেমন পাসপোর্টেও যেন হুবহু একই হয়
  • ম্যারেজ সার্টিফিকেটে আপনার এড্রেস ও আপনার পাসপোর্টের স্থায়ী ঠিকানা যেন একই হয় (কাবিননামায় যেটাই থাকুক না কেন, ট্রান্সলেশন করার সময় ঠিক করে নিয়েন)
  • কাবিননামা ও ম্যারেজ সার্টিফিকেটে যেন কোনভাবেই কোনরকম ভুল বানান না থাকে, কারণ ট্রান্সলেশন সাধারণত কাজী রেডি কিছু টেমপ্লেট থেকেই করে, ভুল হলে ইমিগ্রেশনে ডকুমেন্ট রিজেক্টেড হবে
  • পারমিট পেতে সকলের পাসপোর্টের মেয়াদ মিনিমাম ১৪ মাস থাকতে হয়, কাজেই মেয়াদ কম থাকলে রিনিউ করিয়ে নিন
  • সম্ভব হলে পাসপোর্টে Spouse বক্সে পরষ্পরের নাম বসিয়ে দিন, এতে ডিপেন্ডেন্ট পাস পাওয়া সহজ হবে (পাসপোর্ট এ স্বামী বা স্ত্রীর নাম এড/রিমুভ করতে পাসপোর্ট অফিসে কাবিননামা/ডিভোর্স লেটারের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়)

তো কি দাঁড়াল? স্ত্রী সহ রিলোকেশনে যেতে হলে আপনাকে রেডি করতে হবে - ২ জনের মেয়াদ সহ পাসপোর্টের স্ক্যান কপি (পুরো ৫০ পাতাই, সিংগেল ফাইলে পিডিএফ), আপনার ব্যাচেলরস (বা শেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার) সত্যায়িত কপি, আপনাদের বিয়ের কাবিননামা (ইংরেজীতে বলে NIKAH NAMA) ও ম্যারেজ সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি। পাসপোর্ট করা তো খুবই সহজ। ইমার্জেন্সিতে করলে অথবা দালাল ধরে করলে ৭-১৫ দিনেই পেয়ে যাবেন। কাবিননামা রিলেটেড জিনিস (ট্রান্সলেশন, সার্টিফিকেট ইসু) এগুলা আপনার কাজীই করবেন (টাকাপয়সা নিতে পারে)। এই সব ডকুমেন্টের মূল কপি পাওয়ার পর মূল ঝামেলা হল সত্যায়ন।

ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসার জন্য কেও কখনো কোনদিন মূল কপি চায়না। সুতরাং কোন এজেন্সি যদি মূল কপি চায় বা কোন কোম্পানি মূল কপি চাইলে সতর্ক থাকুন।

কাগজপত্র সত্যায়ন

সত্যায়ন করাটা প্রচুর কষ্টকর ও সময়ের ব্যাপার। তবে গুছিয়ে করলে এক থেকে দুসপ্তাহের বেশী সময় লাগবেনা। আর প্যারালালি করলে আরো কম সময় লাগবে।

সবার শুরুতে লাগবে আপনার ব্যাচেলরস (বা শেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার) সার্টিফিকেটের True Copy. এটা পেতে আপনাকে ইউনিভার্সিটিতে যোগাযোগ করতে হবে। এটা পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে ভার্সিটি থেকে সকল ক্রেডিট শেষ করে পাশ করতে হবে এবং ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভার্সিটির শিক্ষা শাখা বা হায়ার স্টাডি বা ফরেন এজুকেশন ডিপার্টমেন্টগুলায় যোগাযোগ করলে তারা আপনাকে আপনার মূল সনদের কপি রেজিস্ট্রারার ও এক্সাম কনট্রোলারকে দিয়ে সত্যায়িত করিয়ে দিবে। এই কাজে ভার্সিটি অনুযায়ী পার পেজ কিছু ফি লাগে। সাথে স্পীড মানি এপ্লাই করলে আপনি ১ দিনেই সত্যায়িত মূল সনদ পেয়ে যাবেন। আবারো বলছি, আপনাকে মূল সনদের ফটোকপি সত্যায়িত করতে হবে, গ্রেডশিট বা অন্যান্য ডকুমেন্টস প্রয়োজন নেই।

নিকাহনামা ও ম্যারেজ সার্টিফিকেটের ট্রু কপি কাজীকে দিয়ে সত্যায়িত করে নিন। একটা জিনিস মাথায় রাখুন। ট্রু কপি পেলেও আপনার আসল বাংলা কাবিননামা কিছু জায়গায় প্রয়োজন হবে। কাজেই সব স্বযত্নে রাখুন।

এজুকেশনাল সার্টিফিকেটের ট্রু কপি পেয়ে চলে যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে (শিক্ষা বোর্ড নয়)। সকাল ১০ টার আগেই যান। গিয়ে সোনালী সেবার ফর্ম পূরণ করে টাকা জমা দিয়ে লাইনে দাঁড়ান। ওরা জমা নিয়ে আপনাকে একটা স্লিপ দিবে। ওইদিন বিকালে বা পরদিন বিকালে স্লিপ দেখিয়ে পেপারস তুলে নিয়ে আসুন। দেখবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটা সীল দেওয়া হয়েছে তারিখ সহ। এই ডকুমেন্টটি নোটারাইজড থাকবে।

আর নিকাহনামা-ম্যারেজ সার্টিফিকেটের ট্রু কপি নিয়ে চলে যান আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে গিয়ে একজন লাইসেন্সধারী ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে নিকাহনামা আর ম্যারেজ সার্টিফিকেট নোটারাইজড করে সীল নিয়ে নিন। নোটারী করার সময় মূল কপি দেখতে চাইবে। তখন বাংলা কাবিননামা দেখাবেন।

এবার নোটারাইজড এজুকেশন সার্টিফিকেট আর নোটারাইজড ম্যারেজ সার্টিফিকেট (নিকাহনামা রাখলে ভাল) নিয়ে চলে যান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (MoFA). সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে পেপারগুলা জমা দিন এবং স্লিপ নিয়ে আসুন। একই ভাবে পরদিন গিয়ে উঠিয়ে নিয়ে আসুন। এবার উঠানোর সময় দেখবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনসুলারের সাইন ও তারিখ সহ সিল দেওয়া হয়েছে। একই সাথে একটি সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়েছে প্রতিটি কপিতে। যেমন A-52, বা T-77 এইরকম। ডকুমেন্টস উঠিয়ে আনার পর ভালমত খেয়াল করবেন যে এই সিরিয়াল নম্বরটা বসানো হয়েছৈ কিনা। কারণ পরবর্তী সত্যায়ন করতে এই সিরিয়াল নম্বরটি দরকার হবে।

যদি সরকারী মন্ত্রণালয়ে সত্যায়িত করার ঝামেলায় যেতে না চান, তাহলে ঢাকার ফার্মগেটে প্রচুর নোটারী ও ট্রান্সলেশন করার দোকান রয়েছে। এরা প্রায় সবাইই কিছু স্পীড মানির বিনিময়ে ৩-৪ দিনে সব মন্ত্রণালয়ে ঘুরে সত্যায়িত করে আপনাকে দিয়ে দিবে। আপনার ডকুমেন্টের সংখ্যার ভিত্তিতে পার পেজ ৫০০-২০০০ টাকাও নিতে পারে। দরদাম করে নিবেন। তবে আমি বলব খুব আর্জেন্ট না হলে আর ছুটির দিন না থাকলে নিজেই ৩-৪ দিনে সব করতে পারবেন। আর যদি স্পীড মানি এপ্লাই করতেই চান তাহলে মোশাররফ (+8801918054192) এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

এবার আপনার হাতে MoFA কতৃক সত্যায়িত ট্রু কপি আছে। আপনি ওই তিনটি ডকুমেন্ট নিয়ে চলে যান মালয়েশিয়ান এমব্যাসীতে। ডকুমেন্ট সত্যায়িত করতে ওরা কাগজ জমা নেয় দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টার মাঝে। সত্যায়িত করতে প্রতি ডকুমেন্ট ৩০০ টাকা করে নিবে। টাকা জমা নিয়ে ওরা একটা স্লিপ দিবে যেখানে লেখা থাকবে আপনার ডকুমেন্ট কতটি এবং কয়দিন পর ফেরত দেওয়া হবে। সাধারণত ৫ ওয়ার্কিং ডে পরই ফেরত দেওয়া হয়। ফেরত নেওয়ার সময় দেখে নিন মালয়েশিয়ান এমব্যাসীর কনসুলার সাইন করেছেন কিনা। ভাল কথা, এটেস্টেশন সার্ভিসের জন্য এমব্যাসীতে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়না। যে কেউই আপনার হয়ে পেপারস জমা দেওয়া ও কালেক্ট করতে (স্লিপ থাকলে) পারবেন।

পেপারস তুলে আনার সময় আপনার কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে জেনে নিন কোন ঠিকানায় ডকুমেন্টস পাঠাতে হবে। মালয়েশিয়ান এমব্যাসি ডকুমেন্ট ফেরত দেয় একই সময়ে, দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টার মাঝে। সুতরাং দুপুরে ডকুমেন্টস তুলে তখনই DHL ব FedEx দিয়ে তখনই মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দিতে পারবেন। দেশের বাইরে ডকুমেন্ট পাঠাতে আপনার NID/Passport লাগবে। ফটোকপি করার প্রয়োজন নেই। ওরা স্ক্যান করে নিবে। সুতরাং মনে করে এগুলা সাথে রাখবেন। DHL এ ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ডকুমেন্ট পাঠাতে ৩৫০০-৪৫০০ টাকা নিবে। ইনসুরেন্স সহ পাঠানোর দরকার নেই। কারণ এগুলা মূল কাগজ নয়, জাস্ট এটেস্টেড ফটোকপি। ফেডেক্স নিয়ে আমার ধারণা নেই। তবে ডকুমেন্ট দ্রুত পৌঁছানোই ভাল। ডকুমেন্ট পাঠিয়ে দিয়ে বাসায় এসে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান। কারণ বাকি কাজ মালয়েশিয়ান কোম্পানিই করবে। আপনি শুধু অপেক্ষা করবেন EP এপ্রুভ হওয়ার জন্য।

কাগজপত্র এটেস্টেশন করার সময় আমি সাজেস্ট করব মিনিমাম ২ কপি এটেস্টেশন করাতে। এক কপি মালয়েশিয়ায় পাঠাবেন আর এক কপি মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় নিজের সাথে নিয়ে যাবেন। কেননা চাকরি বদলানোর সময় আপনার এই কাগজপত্র পুনরায় লাগতে পারে।

পরের পর্বে ভিসা এপ্লাই ও মালয়েশিয়া যাওয়া নিয়ে সাজেশন ও টিপস দেওয়া হবে। ততদিন সবাই সুস্থ থাকুন। শুভকামনা!

পরবর্তী পোস্ট মালয়েশিয়ায় রিলোকেশন ২ - ভিসার জন্য এপ্লাই করা